11/01/2026
বাংলাদেশে একটি ফিলিং স্টেশন বা পেট্রোল পাম্প স্থাপন করা বেশ বড় বিনিয়োগের বিষয়। যেহেতু আপনি জমি এবং উপরের অবকাঠামো (বিল্ডিং, ক্যানোপি বা ছাদ) বাদে শুধুমাত্র মেশিনারি, স্টোরেজ এবং লাইসেন্সিং এর খরচ এর কথা বলেছেন, বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী একটি সম্ভাব্য খরচের ধারণা এমন হতে পারে:
ডলারের রেট এবং লোহার দামের ওপর ভিত্তি করে এই খরচ কম-বেশি হতে পারে। এখানে ৬টি ডিসপেনসিং ইউনিট (মেশিন) এবং আনুষাঙ্গিক খরচের একটি আনুমানিক হিসাব:
১. ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিন খরচ (Fuel Dispensers)
আপনি মোট ৬টি মেশিন বসাতে চাচ্ছেন (২টি ডিজেল, ২টি অকটেন, ২টি পেট্রোল)। মেশিনের দাম ব্র্যান্ড (Tatsuno, Gilbarco, Tokheim ইত্যাদি) এবং অরিজিন (জাপান, চীন, বা ইউরোপ) এর ওপর নির্ভর করে।
প্রতিটি মেশিনের দাম:
ভালো মানের (ডুয়েল নজল বা সিঙ্গেল নজল) মেশিনের দাম ৩,৫০,০০০ থেকে ৬,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
হিসাব:
৬টি মেশিন × গড়ে ৪,৫০,০০০ টাকা (ধরে নিলাম) = ২৭,০০,০০০ টাকা (আনুমানিক)।
নোট:
আপনি যদি চাইনিজ মেশিন নেন খরচ কম হবে, কিন্তু জাপানি বা ইউরোপিয়ান মেশিনে খরচ বেশি হলেও টেকসই হয়।
২. আন্ডারগ্রাউন্ড স্টোরেজ ট্যাংক (Underground Storage Tanks)
তেল মজুত রাখার জন্য মাটির নিচে মোটা স্টিল প্লেটের তৈরি ট্যাংক বসাতে হবে। ৬টি মেশিনের জন্য আপনার পর্যাপ্ত মজুত দরকার। সাধারণত ডিজেলের চাহিদা বেশি থাকে, তাই ডিজেলের ট্যাংক বড় করা হয়।
খরচ:
এম.এস (Mild Steel) প্লেট কেনা, ট্যাংক ফ্যাব্রিকেশন (তৈরি), লিকেজ টেস্ট এবং ক্যালিব্রেশন চার্ট তৈরি।
পরিমাণ:
সাধারণত ৩টি বড় ট্যাংক লাগবে (১টি ডিজেল, ১টি পেট্রোল, ১টি অকটেন) অথবা ভলিউম অনুযায়ী ৪টি।
খরচ ধারণা:
প্রতি ট্যাংক তৈরি ও মাটির নিচে সেটআপ করতে (প্লেটের বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী) প্রায় ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ হতে পারে।
মোট খরচ:
৩-৪টি ট্যাংকের জন্য প্রায় ১৫,০০,০০০ থেকে ২০,০০,০০০ টাকা।
৩. তেল কোম্পানির সাথে চুক্তি ও সিকিউরিটি মানি
বাংলাদেশে তেল বিপণন কোম্পানিগুলো (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) ডিলারশিপ দেওয়ার জন্য একটি জামানত বা সিকিউরিটি মানি নেয়।
সিকিউরিটি ডিপোজিট:
কোম্পানি ভেদে এটি ২,০০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ টাকা হতে পারে।
অন্যান্য ফি:
প্রসেসিং ফি এবং আনুষাঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩,০০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ টাকা।
৪. লাইসেন্স এবং অনুমোদনের খরচ (Licensing Cost)
এটি পাম্প চালুর সবচেয়ে জটিল এবং সময়সাপেক্ষ ধাপ। অনেকগুলো দপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিতে হয় (যেমন: বিস্ফোরক অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক বা DC অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে ইত্যাদি)।
সরকারি ফি:
সরকারি ফি খুব বেশি নয়, তবে বিভিন্ন ধাপে ফাইল প্রসেসিং, কনসালটেন্সি এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এটি বেশ বড় অংকের হয়ে যায়।
আনুমানিক খরচ:
সমস্ত লাইসেন্স বা এনওসি (NOC) যোগাড় করতে ৫,০০,০০০ থেকে ৮,০০,০০০ টাকা বা তার বেশি খরচ হতে পারে (অবস্থান ও জটিলতার ওপর নির্ভরশীল)।
মোট আনুমানিক বাজেট (জমি ও অবকাঠামো ছাড়া)
খাতের নাম আনুমানিক খরচ
৬টি ডিসপেনসার মেশিন ২৭,০০,০০০ - ৩৬,০০,০০০ টাকা
আন্ডারগ্রাউন্ড স্টোরেজ ট্যাংক ১৫,০০,০০০ - ২০,০০,০০০ টাকা
কোম্পানি চুক্তি ও জামানত ৩,০০,০০০ - ৫,০০,০০০ টাকা
লাইসেন্স ও প্রসেসিং খরচ ৫,০০,০০০ - ৮,০০,০০০ টাকা
পাইপলাইন ও ইলেকট্রিক ফিটিংস (মেশিন সংযোগের জন্য) ২,০০,০০০ - ৩,০০,০০০ টাকা
সর্বমোট ৫২,০০,০০০ - ৭২,০০,০০০ টাকা