22/05/2025
পর্ব-২
কীভাবে ভ্যাট দিতে হয় : একজন ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠান ভ্যাট যোগ্য পণ্য বা সেবার ব্যবসায় করলে তাকে নিয়মিত ভ্যাট দিতে হবে । যদিও অল্প কিছু পণ্য বা সেবার উপর ভ্যাট নেই, যেমন-খাদ্যশস্য, গাছের ছাল, কাঠ, মাছ, কাচাঁ সবজি, পশুখাদ্য, কাচাঁ মাংস প্রভৃতি। আলোচনার সুবিধার্থে ধরে নেই সকল প্রোডাক্টের উপর উপরই ভ্যাট আছে এবং বাংলাদেশে ভ্যাটের প্রকৃত হার ১৫%। যদিও কিছু পণ্য বা সেবার উপর ভ্যাটের এই হার সংকুচিত মানে ১০%,৫%,২.৪% ইত্যাদি রাখা আছে । আজ একটি উদাহরণ দিবো ১৫% হিসেবে, একজন উৎপাদনকারী কীভাবে ভ্যাট হিসেব করবেন ।
ধরুন, আপনি চিপস উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন । চিপস উৎপাদনের কাচাঁমাল হিসেবে আলুর পাউডার, ময়দা, বিভিন্ন ধরণের মশলা এবং প্যাকেজিং এর জন্য প্যাকেট ক্রয় করেন । এক প্যাকেট চিপসের সরবরাহ মূল্যের মধ্যে ভ্যাট থাকবে এবং এর মূল্য ধরা হলো ৭.৫০ টাকা ।
এই ৭.৫০ টাকার মধ্যে ভ্যাট আছে (৭.৫০/১০৭.৫ ী ১০০ =৬.৯৮ ী ১৫% )=১.০৫ টাকা । এখন, একটি চিপস সরবরাহের বিনিময়ে ৭.৫০ টাকা গ্রহণ করলে আপনাকে কি চালানের মাধ্যমে ১.০৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে ? উত্তর হলো- না । আসুন দেখি কতো পরিশোধ করতে হবে ।
ধরে নেই, এক প্যাকেট চিপস উৎপাদন করতে কাঁচামাল, প্যাকেট ও বিদুৎ অন্যান্য খরচ বাবদ আপনাকে ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়েছে (প্রতি প্যাকেটের অনুপাতে) ০.৮০ টাকা। তাহলে আপনাকে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে ১.০৫-০.৮০ =০.২৫ টাকা । এখন, মাসে যতো প্যাকেট বিক্রি করবেন ততো ০.২৫টাকা হিসেবে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে অটোমেটেড চালানের মাধ্যমে ।
একজন উৎপাদনকারী পাইকারী দোকানে, পাইকারী দোকানী খুচরা দোকানে পণ্য পৌঁছে দেন এবং খুচরা দোকানীর নিকট থেকে ভুক্তা ক্রয় করেন। এখানে পাইকারী দোকানী এবং খুচরা দোকানী যে ব্যবসায় করেন এর উপরও ভ্যাট পরিশোধ করতে হয় । কিন্ত, এই সেক্টওগুলো থেকে সরকার তেমন একটা রাজস্ব পায় না । নিকট ভবিষ্যতে এ সুযোগ কমে যাবে তাই ভ্যাট বিষয়ে ন্যুনতম ধারণা রাখতে হবে ব্যবসায়ীদেরকে । ধন্যবাদ [২২.০৫.২৫]