19/10/2025
যারা সান জু-র 'The Art of War' পড়েছেন, তারা এই প্যাটার্নটা ধরতে পারবেন।
সান জু বলেছেন, 'যেকোনো যুদ্ধের মূল ভিত্তি হলো ধোঁকা'। আর এখানের সবচেয়ে বড় ধোঁকাটা হলো আমাদের নিজেদের দুর্বলতাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা। আমাদের যে ঘনঘন 'দুর্ঘটনায়' আগুন লাগার ইতিহাস আছে, ঠিক সেটাকেই ইউজ করে পারফেক্টলি 'আড়াল' করার জন্য তত্ব হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এটাই সাইকোলজিক্যাল অপারেশন বা PSYOPS. ওরা আমাদেরকেই দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে যে এটা কি পরিকল্পিত স্যাবোটাজ, নাকি আমাদের নিজেদের অবহেলা? এই কনফিউশনটাই আসল আক্রমণ।
সান জু এটাকে বলেন 'অগ্নি-আক্রমণ'। এটা শুধু আগুন লাগানো না, এটা কৌশলগত টার্গেট ধ্বংস করা যেমন: আমাদের 'গুদাম' (গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি) এবং আমাদের 'সাপ্লাই লাইন' (এয়ারপোর্ট কার্গো)। এটা কোনো এলোমেলো অগ্নিসংযোগ নয়; এটা শত্রুর লজিস্টিকস এবং অর্থনৈতিক সম্পদের উপর সুনির্দিষ্ট আঘাত।
এর লক্ষ্য একটাই: 'বিনা যুদ্ধে শত্রুকে পরাজিত করা'। ওরা কোনো সৈন্য পাঠায়নি। ওরা শুধু আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ডটা পুড়িয়ে দিয়ে, আতঙ্ক ছড়িয়ে, ভেতর থেকেই দেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। যুদ্ধ ঘোষণার আগেই যুদ্ধ জয়।
আর এই অপারেশন সফল হচ্ছে কারণ ৫ই আগস্টের পর থেকে ডিজিএফআই, এনএসআই এর মতো গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না, অথবা করতে পারছে না। ভেতরে মনে হচ্ছে দুটি গ্রুপ সক্রিয়: একটা গ্রুপ জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, আর অন্য গ্রুপটি হয়তো এসব স্যাবোটেজ নিউট্রেলাইজ করার চেষ্টা করছে। আরও গ্রুপও থাকতে পারে হয়তো অন্য কারো পারপাস সার্ভ করছে। এটা ভয়ংকর অ্যালার্মিং। এভাবে একটা রাষ্ট্র চলতে পারে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের শুরুতেই এই সিস্টেমগুলোতে প্রয়োজনীয় 'পার্জ' বা শুদ্ধি অভিযান চালানো উচিত ছিল।