07/02/2024
ভ্যাট টিপস-১১৭/২০২৪:
বিষয়: ভ্যাট নিয়ে একটা মৌলিক ভাবনা।
পাঠকগণ হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে, আমার লেখাগুলো কয়েক ধরনের হয়। ভ্যাট সংক্রান্ত জটিল বিষয় সমাধান দেয়া, জটিল বিষয় বুঝিয়ে দেয়া, অনিয়ম নিরসণ করা, ভ্যাট প্রদানের পদ্ধতি সহজ করা, জনগণকে ভ্যাট বিষয়ে সচেতন করা, ভবিষ্যৎমুখী সংস্কারমূলক আলোচনা করা ইত্যাদি। আজ সংস্কারমূলক আলোচনা করবো, ইন-শা-আল্লাহ।
প্রত্যেকটা করের নির্দিষ্ট ভিত্তি থাকে এবং নির্দিষ্ট মানুষের নিকট থেকে তা আহরণ করা হয়। আয়করের ভিত্তি হলো আয়। যিনি আয় করেন, তিনি আয়কর প্রদান করেন। আয়কর প্রদানকারী সরাসরি সরকারি কোষাগারে আয়কর জমা দেন। আমদানি শুল্কের ভিত্তি হলো আমদানি। যিনি আমদানি করেন, তিনি আমদানি শুল্ক প্রদান করেন। আমদানিকারক সরাসরি সরকারি কোষাগারে আমদানি শুল্ক জমা দেন। হোল্ডিং ট্যাক্স এর ভিত্তি হলো পৌর এলাকায় কোনো স্থাপনা। যার পৌর এলাকায় স্থাপনা আছে, তিনি হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করেন। আমি যতদূর জানি, পৌর কর্তৃপক্ষ হোল্ডিং ট্যাক্স কালেকশন করে নিয়ে যায়। রোড ট্যাক্স এর ভিত্তি হলো গাড়ি। যিনি গাড়িতে চড়ে সড়ক ব্যবহার করেন, তিনি রোড ট্যাক্স প্রদান করেন। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করার সময় বা নবায়ন করার সময় ব্যাংকের মাধ্যমে রোড ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। অর্থাৎ করদাতা সরাসরি সরকারি কোষাগারে করের অর্থ জমা দেন অথবা ব্যাংকে জমা দেন অথবা কর্তৃপক্ষ কর সংগ্রহ করে। ভ্যাটের কথায় আসি। ভ্যাটের ভিত্তি হলো বিক্রয়। যখন পণ্য বা সেবা বিক্রি হয় তখন ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। ভ্যাটের আর একটা মৌলিক কথা হলো, ভ্যাট প্রদান করবেন ক্রেতা বা ভোক্তা। ভ্যাটের ক্ষেত্রে ক্রয় করার সময় ক্রেতা সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা দিতে পারেন না, ব্যাংকেও জমা দিতে পারেন না। ভ্যাট কর্তৃপক্ষও ভ্যাট কালেকশন করতে পারে না। তাই, ক্রেতাকে বিক্রেতার কাছে ভ্যাট দিয়ে যেতে হয়।
এই দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে বিক্রেতার নয়। এই দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে বিক্রেতাকে নিবন্ধন নিতে হয়, হিসাব রাখতে হয়, চালানপত্র ইস্যু করতে হয়, ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। কর্তৃপক্ষ বিক্রেতাকে অডিট করা হয়, ত্রুটি পাওয়া গেলে বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়। অথচ ভ্যাট দেয়ার প্রাথমিক দায়িত্বই বিক্রেতার ছিল না।
তাহলে করণীয় কি? যখন বিক্রি হয় এবং মূল্য প্রদান করা হয়, তখন ভ্যাট আলাদা করে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা করা যায় কিনা সে বিষয়টি ভেবে দেখা যায়। তথ্যপ্রযুক্রির সহায়তায় এখন এমন অনেক কাজ করা হয়। বর্তমানে অনলাইন পেমেন্ট উন্নত হয়েছে যা আগামীতে আরো সহজ, ব্যাপকভিত্তিক হবে বলে আশা করা যায়। তাই, যখন বিক্রি হয় তখন মূল্য বিক্রেতার একাউন্টে জমা হবে আর ভ্যাট সরকারি একাউন্টে জমা হবে এমন ব্যবস্থা করা যায়। যেসব পেমেন্ট অনলাইনে হচ্ছে, সেসব পেমেন্টের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রবর্তন করা যায়। এখন থেকে এই পদ্ধতি চালু করা হলে একসময় ভ্যাটের বড় অংশ এই পদ্ধতিতে সহজে ও সঠিকভাবে আহরিত হতে পারবে, ইন-শা-আল্লাহ্।
যাঁরা তথ্য প্রযুক্তির সাথে জড়িত তাঁরা দয়া করে এ বিষয়টা ভেবে দেখতে পারেন। অর্থাৎ যাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন তাঁদের জন্য সহজভাবে কর তথা ভ্যাট আদায় করতে অনেক অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। তাঁদেরকে দয়া করে এ বিষয়টা ভেবে দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি এবং পাঠকদেরকে এ বিষয়ে মতামত প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা।
ড. মোঃ আব্দুর রউফ
ভ্যাট বিশেষজ্ঞ।
০৭.০২.২০২৪