02/01/2020
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ইং স্থগিত করে সংশোধনের আরজি
বাংলাদেশ কভার্ডভ্যান ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশন টি.ও নং-১৪/২০১০|
বাংলাদেশ কভার্ডভ্যান ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ইং যথোপযুক্ত সংশোধন ও যুগোপযোগী ধারা সন্নিবেশন এর পূর্ব পর্যন্ত স্থগিত করার জোর দাবী জানাচ্ছি।
সড়ক দূর্ঘটনা হ্রাস ও সড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে বাংলাদেশ কভার্ডভ্যান ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশন মটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩ ইং এবং মটরযান বিধিমালা-১৯৮৪ ইং এর যুগোপযোগী পরিবর্তন চায় তবে গত ১লা নভেম্বর-২০১৯ ইং থেকে কার্যকর সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ইং পরিবহন শিল্পকে ধ্বংসের একটি সুক্ষ নীল নকসা এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিশাল জনগৌষ্ঠিকে বর্তমান স্থিতিশীল সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর পাঁয়তারা বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
কোন মানুষ যেখানে ত্রুটিমুক্ত নয় সেখানে যান্ত্রিক যানবাহনে ত্রুটি থাকতেই পারে, ত্রুটিকে অপরাধ হিসেবে গন্য করে বড় শাস্তি বা জরিমানা মালিক/শ্রমিকরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেনা। বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিমান যানবাহন চলাচল করে চালকের সংখ্যা তার অর্ধেক এমতাবস্থায়, সড়ক দূর্ঘটনায় জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হলে নিকট ভবিষ্যতে চালকের সংকট আরো তীব্র হবে বলে মালিক প্রতিনিধিরা মনে করে, শ্রমিক প্রতিনিধিরা এ পেশায় ভবিষ্যতে আর কেহ আগ্রহী হবেনা মর্মে মত দেন। উক্ত আইনে লাইসেন্স এর জরিমানা ধরা হয়েছে-২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা, একজন ড্রাইভার তার ২ মাসের বেতন দিয়েও জরিমানা পরিশোধ করতে পারবেনা পক্ষান্তরে তার পরিবার অভূক্ত থাকতে হবে। তাই উক্ত জরিমানা খুবই অসামাঞ্জস্য বলে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা মনে করে।
ফিটনেস বিহীন/ মেয়াদ উত্তীর্ণ ফিটনেস এর জরিমানা-২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা। মেয়াদোত্তীর্ণের দিন ফিটনেস করা খুবই কঠিন, কারন বি.আর.টি.এ-তে গাড়ী প্রদর্শন এবং দাপ্তরিক কাজ, ব্যাংকে টাকা পরিশোধ করতে ৮/১০ দিন সময় লেগে যায় তাই মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই মামলা করা যাবে না। বি.আর.টি.এ এর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ফিটনেস নেয়ার সময় দিতে হবে এবং জরিমানা পূর্বের দ্বিগুন এর বেশী করা উচিৎ হবেনা মর্মে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা মত দেন। তেমনিভাবে রূট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন এর জরিমানা সহনশীল পর্যায় রাখার জোর দাবী জানাচ্ছি।
যেহেতু সমগ্র বাংলাদেশের হাইওয়ে ও জেলা শহরগুলো এখনো সি.সি ক্যামেরার আওতায় আসেনাই সেহেতু ট্রাফিক সংকেত অমান্য/আদেশ অমান্য জনিত বিতর্কিত মামলার জরিমানা ৫০০ গুন করা হয়েছে তাহা কেহই মেনে নেবেনা।
সমগ্র বাংলাদেশের হাইওয়ের পাশে এখন পর্যন্ত কোন পার্কিং এর জায়গা নির্ধারিত হয় নাই বা কোন টার্মিনাল নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা জানতে পেরেছি যে, পর্যায়ক্রমে সমগ্র হাইওয়ের পাশে টার্মিনাল ও পার্কিং চালকের বিশ্রামাগারসহ নির্মান করা হবে, বিশ্রামাগার ও পার্কিং এর ব্যবস্থা ব্যতিত রং পার্কিং এর জরিমানা আদাকোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়।
সিট বেল্ট, হর্ণ, সাইলেন্সার পাইপ, চাকার সাইজ এরমত ছোট খাটো ত্রুটি বিচ্যুতির জন্যে মালিকদের সময় না দিয়ে বৃহৎ জরিমানার আইন বাস্তব সম্মত নয় বলিয়া সকলে একমত পোষন করেন।
সর্বোপরি, পরিবহন সেক্টর এর মালিক শ্রমিকদের আয়ের সহিত অসামাঞ্জস্য পূর্ণ জরিমানার বিধান ও দন্ড উল্লেখ পূর্বক উক্ত আইন অনতিবিলম্বে স্থগিত করে সংশোধনের জন্যে বাংলাদেশ কভার্ডভ্যান ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছে, প্রয়োজনে বাংলাদেশ কভার্ডভ্যান ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশন এর নেতৃবৃন্দ সমগ্র বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত আইন সংশোধনে যে কোন আলাপ-আলোচনা, পর্যবেক্ষন, অনুশীলন ও গভীর নীরিক্ষন পূর্বক বাস্তব সম্মত আইন প্রনয়নে সকল প্রকার সহযোগিতা ও পরামর্শ দানে সদা প্রস্তুত রহিয়াছি।
ধন্যবাদান্তে,
মোঃ নজরুল ইসলাম
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ কভার্ডভ্যান ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশন
টি.ও লাইসেন্স নং-১৪/২০১০
মোবাইল নং-০১৭১৩-৩৭৬৪৫২, ০১৬১৭-০০০৭৮৭